টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালেঃ দিন দিন পরিনত হচ্ছে ময়লার ভাগাড়ে

দৈনিক আজকের খবরদৈনিক আজকের খবর
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০২ AM, ০১ অগাস্ট ২০২১

মো.রবিউল ইসলাম টঙ্গীঃ

টঙ্গীর স্টেশন রোডে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল (সরকারি) হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় ও অনিয়মে জর্জরিত। যেখানে-সেখানে ময়লা থাকায় হাসপাতালে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও সাধারণ মানুষের।

পরিছন্নতা কর্মীসহ ৫৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ রয়েছে। এত লোক আউটসোর্সিংয়ে অথচ অনেকেই কাজ করছেন না। ফলে হাসপাতালের দুটি ভবনের ভেতরে-বাইরের বিভিন্ন স্থানে ময়লার ভাগাড়। আউটসোর্সিং কর্মচারীরা ঠিকমতো কাজ করলে হাসপাতাল ঝকঝকা থাকত। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ঠিকমতো বেতন পান না। কয়েক মাসের বেতন বন্ধ রয়েছে। চাকরিতে প্রবেশ করতে হয় টাকা দিয়ে। লাভবান হন হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের এক থেকে দুইজন লোক, কর্মকর্তা এবং কনট্রাক্টর।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল স্বল্প আয়ের মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র অবলম্বন। হাসপাতালের নতুন ভবনের সিরিতে, কেবিনের সামনে, বারান্দায়, বাথরুমসহ সর্বত্র যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। দুই ভবনের মাঝখানে উন্মুক্তস্থানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় বানিয়ে ফেলেছে হাসপাতালের লোকজন। এসব থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। বন্ধ রয়েছে এক্স-রেসহ সব ধরনের পরীক্ষা। রোগীদের মাঝে নিম্নমানের খাবার পরিবেশনসহ নানা সমস্যা রয়েছে হাসপাতালে। তাছাড়া অতিরিক্ত সম্মানীর লাভের জন্য দালালদের যোগসাজশে রোগীদের বিভিন্ন বাহানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। এর বিনিময়ে একটি (অর্থ) অংশ ফেরত চলে আসে রোগী পাঠানো চিকিৎসক ও দালালদের পকেটে। এছাড়াও সঠিক সময়ে নার্স ও চিকিৎসকদের পাওয়া যায় না।

হাসপাতালে রোগীদের খাবারের মান নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ। সপ্তাহের কোন দিন কোন খাবারটি রোগীদের দেওয়া হবে এবং কতটুকু পরিমাণে দেওয়া হবে এমন রুটিন বা রোস্টার থাকলেও তা মানছে না খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালের ৬ তলায় পুরুষ ওয়ার্ডের এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, দুই দিন হয় এখানে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত এক বেলা খাবার পেয়েছি। বাকি সময় বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়। এখানে যে ধরনের খাবার দেয় তা মুখে দেওয়া যায় না। খাবার খুবই নিম্নমানের।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতালে আগের চেয়ে অনেক পরিস্কার হয়েছে। এখানে পরিচ্ছন্ন লোকের অভাব। বর্তমানে যারা আছে তাদের দিয়ে হাসপাতাল পরিস্কার রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালের প্রয়োজন মেটাতে ডিজি বরাবর চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।

 64 total views,  3 views today

আপনার মতামত লিখুন :