নানা অভিযোগে অভিযুক্ত কথিত ছাত্রলীগ নেতা রবিন সরদার চাঁদাবাজি মামলায় আটক

দৈনিক আজকের খবরদৈনিক আজকের খবর
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০৫ AM, ২৮ এপ্রিল ২০২২

জাহিদ হাসান জিহাদঃ

গাজীপুর মহানগরীর সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ। এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কথিত নেতা নুরুজ্জামান সরদার রবিন ওরফে রবিন সরদার তার নিজ অপকর্ম গুনে দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে অপরাধী কখনো আইনের উর্ধ্বে না।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গালিয়াপাড়ায় আওয়ামীলীগ নেতার পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত মালামালের ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা করেছে গাজীপুর সদর থানা পুলিশ।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে কারখানা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় কারখানার ব্যবস্থাপক গাজীপুর সদর থানায় বাদী হয়ে চাঁদাবাজি মামলা করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত হলেন, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার মোল্লাকান্দি গ্রামের রুহুল আমিন সরদারের ছেলে রবিন সরদার (২৬), শরীয়তপুরের মোল্লাপাড়া গ্রামের সিরাজ সরদারের ছেলে শাহীন ওরফে শামীম সরদার (৩২), গাজীপুরের যোগীতলা এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে জোবায়ের আহম্মেদ হাওলাদার (২১) ও চতর এলাকার আতাউল্লাহর ছেলে মনির (২৬)।

জানাগেছে, ছাত্রলীগনেতা রবিন ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চাঁদাবাজি, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ ১৫ মামলা আসামী তিনি।এতমামলার ওয়ারেন্ট মাথা থাকলেও বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছিলো নিজের অপকর্ম। রাজনৈতিক জীবন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো রবিন।

মামলা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জাঙ্গালিয়াপাড়া এলাকায় আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবালের মালিকানাধীন বেন্টিলি সোয়েটার লিমিটেড নামের কারখানা রয়েছে। ওই কারখানার পুরাতন লোহা লক্কর ও ভাঙ্গারীর মালামাল আবু হানিফ নামে এক ব্যবসায়ীকে বিক্রি করা হয়। আবু হানিফ গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন সময়ে মালামাল নিতে থাকে। কিছুদিন ধরে বিবাদী ছাত্রলীগ নেতা রবিন সরদার ও তার সহযোগীরা ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

সরজমিন এই ছাত্রলীগ নেতা ও তার গ্যাং এর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালালে জানাযায়,রাজনৈতিক জীবনে পা রেখে জয়দেবপুর থানায় প্রথম মামলার আসামী হয়েছেন রবিন ২০১৩ সালে যার মামলা নং ৩৪(৯) ধারা ১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/৩০২/৫০৬/১১৪। এরপর ২০১৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে তার অপকর্মের কারনে জয়দেবপুর, বাসন ও সদর থানায় একে একে ১৫ টি মামলা হয় যার মামলা নম্বরগুলো হলো জয়দেবপুর থানা ০৭(৪)১৭ ধারা, ১৪৩/৪৪৮/ ৩২৩/ ৩৩২/৩৫৩/১৮৬/৪২৭/৫০৬। জয়দেবপুর থানা ১৪৭(৪)১৭ ধারা, ২০০০ সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ( সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(৩)/৩০। জয়দেবপুর থানা মামলা নং ৪৫(৮)১৭ ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ ও সি/এস নং ২৫১ ৩/৯/২০১৯। জয়দেবপুর থানা মামলা নং ১১১(৯) ১৭ ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৫/ ৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬। জয়দেবপুর থানা মামলা নং ৭১(১০)১৭ ধারা১৪৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/ ৩০৩/১১৪। সদর থানা মামলা নং ১৯(০২)১৯ ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬/(২)। বাসন থানা মামলা নং ৩৬(৫)১৯ ধারা ১৪৩/১৪১/৩২৩/৩২৪/ ৩২৬ / ৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/১১৪। বাসন থানা মামলা নং ২১(৬)১৯ ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/ ৩৭৯/ ৩০৭/৫০৬। বাসন থানা মামলা নং ২২(৬)১৯ ধারা দ্রুত বিচার আইন ৪/৫। বাসন থানা মামলা নং ২৩ (৬)১৯ ধারা ৩৪১/৩৮৫/৩৪। বাসন থানা মামলা নং ২৮(৬) ১৯ ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/ ৩৭৯/৫০৬। বাসন থানা মামলা নং ২৯(৬)১৯ ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/ ৩৭৯/৩৮৫/৫০৬। মামলা নং ৩০(৬)১৯ ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/ ৩০৭/৩৭৯/৩৮৫/৫০৬। সদর থানা মামলা নং ৩৫ (০১)২০২১ ধারা ১৪৩/৩৬৫/৩২৩/৫০৬/৩৪। অভিযোগ রয়েছে এসব মামলা ধামাচাপা দিতে একাধিক বার কলেজের সাধারণ ছাত্র ছাত্রী দের দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করান তিনি। মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে পুলিশের বিরুদ্ধে এমন উস্কানিমূলক মানববন্ধন করায় এলাকা সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এলাকাবাসী বলছেন সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এতটা বেপরোয়া রবিন সরদার।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম গ্রেফতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভাওয়াল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা রবিন সরদারের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আর কোথাও কোন মামলা আছে কিনা তদন্ত চলমান।

 130 total views,  1 views today

আপনার মতামত লিখুন :